মৌসুমের মাঝপথেই অবিশ্বাস্য এক স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। প্রথম কোনো ক্লাব হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চেয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু ২৪ বছর ধরে যা করে দেখাতে পারেনি কেউ, তা করে দেখাতে পারেননি মেসি-নেইমাররা। তাই অসাধ্য সাধন হলো না বার্সেলোনার। মেসিদের ইতিহাস গড়ার স্বপ্নকে চুরমার করে দিল অ্যাটলেটিকো। রিয়াল মাদ্রিদের পর মাদ্রিদের অন্য দলটিও উঠে গেল সেমিফাইনালে।
‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফি’ এ শব্দ দুটোই তাহলে ডিয়েগো সিমিওনের সঞ্জীবনী সুধা! অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কোচ হিসেবে বার্সেলোনার বিপক্ষে ১৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন অ্যাটলেটিকোকে, ১০টি ম্যাচেই হেরেছেন। জয় মাত্র ২টিতে। কিন্তু দুটি ম্যাচই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল! দুই মৌসুম আগেও এই অ্যাটলেটিকোর কাছে হেরে ইউরোপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল বার্সেলোনাকে। সেবার বার্সাকে ডুবিয়েছিলেন মিডফিল্ডার কোকে। এবার সে দায়িত্ব নিজের কাঁধে টেনে নিয়েছেন ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার গ্রিজম্যান।
প্রথম লেগে ২-১ গোলের হার, সে ম্যাচের গোলদাতা ফার্নান্দো তোরেস নেই নিষেধাজ্ঞার জন্য—কোনো কিছুই বাধা হতে পারল না। কাল যে বার্সেলোনাকে খেলতেই দিল না মাদ্রিদের দলটি। ম্যাচের শুরু থেকেই বল পাওয়ার জন্য হা-পিত্যেশ করেছেন এমএসএন। বার্সার চিরপরিচিত সেই পাসিং ফুটবল ঠিকই ছিল। কিন্তু সে পাস মধ্যমাঠ পার হয়ে আর মেসি-সুয়ারেজদের কাছে যাচ্ছিল না। যা-ও বা দু-একটি সুযোগ পাচ্ছিলেন, তা-ও অবিশ্বাস্যভাবে হাতছাড়া করছিলেন সুয়ারেজরা।
উল্টোদিকে প্রতি-আক্রমণকে মূল অস্ত্র মেনে মাঠে নামা অ্যাটলেটিকো পুরোপুরি সফল। যে কটি আক্রমণ করেছে তারা, প্রতিটি আক্রমণই ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছিল বার্সার জন্য। ৩৬ মিনিটে এমনি এক আক্রমণে সোলের দুর্দান্ত এক ক্রসে দর্শক হয়ে রইলেন মাসচেরানো, পিকেরা। গ্রিজম্যান মাথা ছুঁয়ে যখন জালে বল পাঠিয়ে দিলেন, গোলকিপার টার স্টেগান তখন অসহায় দর্শক।
এরপরও বার্সেলোনা খেলায় ফিরে আসেনি। বলা ভালো, তাদের আসতে দেয়নি সিমিওনের কৌশল। অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে সেমিতে যখন প্রায় উঠেই যাচ্ছে অ্যাটলেটিকো, ঠিক তখন মরণকামড় দেওয়ার চেষ্টা করে কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু তখন বল চলে এল ফিলিপে লুইসের পায়ে। বল পায়েই খ্যাপাটে দৌড় লুইসের, সে দৌড় থামাতেই পাড়ল না বার্সার রক্ষণভাগ। শেষ চেষ্টা হিসেবে ইনিয়েস্তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, পেনাল্টি! পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল করে বার্সার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকলেন গ্রিজম্যান।
যোগ করা সময়ে একটি পেনাল্টি পেতে পারত বার্সেলোনা। কিন্তু গাবির হাতে বল লাগার বিষয়টি চোখে পড়লেও রেফারির মনে হয়েছে সেটি হয়েছে পেনাল্টি বক্সের বাইরে। তবে বার্সার লেফট ব্যাক জর্ডি আলবা একে অজুহাত বানালেন না, ‘ম্যাচের ফলের সঙ্গে রেফারির কোনো সম্পর্ক নেই। ম্যাচটি জেতানোর কাজ আমাদের। আমরাই তা করতে পারিনি।’
২০১৩-১৪ মৌসুমের পর আবারও দুই মাদ্রিদই সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল। প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাও সর্বশেষ ৪ ম্যাচের হেরেছে ৩টিতে। লা লিগা জয়ের স্বপ্নটাও তাই দেখতে শুরু করতে পারে দুই দল। মাদ্রিদে তো এখন উৎসবের দিন।



